বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় জনমিতিক পরিবর্তনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার (১৩ জুন) উচ্চপর্যায়ের এই কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি সীমান্ত জেলা, মহানগরী এবং শিল্পাঞ্চলগুলো পরিদর্শন করে জনমিতিক পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব মূল্যায়নের নির্দেশ দেন।
পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসন ও অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে জনসংখ্যার কাঠামোগত যে পরিবর্তন ঘটছে, তা খতিয়ে দেখাই এই কমিটির মূল লক্ষ্য। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পি. পি. নাওলকারের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- উত্তরপ্রদেশের সাবেক প্রধান সচিব দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, ব্যুরো অব পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সাবেক প্রধান বালাজি শ্রীবাস্তব এবং অর্থনীতিবিদ শামিকা রবি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ফরেনার্স-১) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নিয়োগের পর থেকেই কমিটিটি বিভিন্ন মহলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, কমিটিতে কোনো জনমিতি বিশেষজ্ঞ (ডেমোগ্রাফার) না থাকায় এর গবেষণালব্ধ ফলাফলের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ‘দ্য ওয়্যার’। ২০২৭ সালের আদমশুমারি প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও কেন সমান্তরালভাবে এই কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তা নিয়েও জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি নেতারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার “জনসংখ্যা বিস্ফোরণ”-এর প্রসঙ্গ টেনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দায়ী করার যে প্রবণতা দেখিয়ে আসছেন, এই কমিটি সেই রাজনৈতিক এজেন্ডারই অংশ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মাঠপর্যায়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের জেরে সেখানে বাঙালিভাষী মুসলমানদের বিচারিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অমানবিক অভিযোগ সামনে আসছে, যা সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
প্রসঙ্গত, জনমিতিক পরিবর্তন বলতে বোঝায় কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের সংখ্যার গঠন বা বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন। একটি এলাকার মানুষের সংখ্যা সময়ের সাথে কেন বাড়ছে বা কমছে এবং সেই মানুষেরা কারা—এর পেছনের কারণ ও ফলাফল বিশ্লেষণ করাই হলো জনমিতিক পরিবর্তনের বিষয়।
খুলনা গেজেট/এএজে

